মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢালিউডের এক অভিনেত্রীকে কুপ্রস্তাব ও বিভিন্ন সময় শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল ডা. মো. মুরাদ হাসানকে। এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকেও তাকে পদত্যাগের কথা বলা হলে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে অবশেষে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের আদেশ তুলে নেওয়ার পর সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকেও ক্ষমা করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
এর আগে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে যারা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন তাদের বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২২ ডিসেম্বর মুরাদ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একইসঙ্গে দল বা দলীয় প্রধানকে বিব্রত করতে পারে ভবিষ্যতে এমন কিছু করবেন না বলে জানান।
এছাড়া সেই শাস্তি প্রত্যাহার করে দলের পক্ষ থেকে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে বলে নিজেও জানিয়েছেন ডা. মুরাদ।আওয়ামী লীগের অনেককেই ক্ষমা করা হয়েছে, আপনি ক্ষমা চেয়েছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে মুরাদ হাসান বলেন, আমি আবেদন করেছিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু এখনো চিঠি আনতে যাইনি। তিনি বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর আরও গুরুতর কথা বলেছিলেন, তাই তিনি চিঠিটা দ্রুত নিয়েছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ক্ষমা পাওয়া নেতাদের মধ্যে মুরাদও আছেন।
উল্লেখ্য, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জেরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা জামালপুর-৪ আসনের সাংসদ ডা. মো. মুরাদ হাসানকে জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ডা. মো. মুরাদ হাসান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালেও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে সরকার গঠনের সময় মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ৫ মাসের মাথায় ওই বছরের ১৯ মে তার দফতর পরিবর্তন করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়।